শুদ্ধি অভিযানের ঢেউ এবার বিস্মৃত হবে জেলা উপজেলা পর্যায়েও। দলীয় এবং প্রশাসনিকভাবে ‘সাইজ’ করা হবে গত ১০/১১ বছরে যারা দলের নাম এবং পদ-পদবী ব্যবহার করে বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন কিংবা এলাকার নিরীহ মানুষের উপর নানা রকম অত্যাচার নির্যাতনে মশগুল ছিলেন এবং ২০০৮ সালের পর দলে অনু প্রবেশ করে দলের দুর্দীনের নেতা-কর্মীদের কোনঠাসা এবং দলে বিভেদ বিভাজন সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে। এছাড়া যেসব নেতারা নানান রকম সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে বিএনপি-জামাত-ফ্রিডম পার্টি থেকে আসা নেতা কর্মীদের দলে ভালো পদ-পদবী দিয়েছেন তাদের বিপক্ষেও নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আস্থাভাজন কয়েকজন এবং প্রশাসনের শীর্ষ মহলে আলাপ করে এমনটাই জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের পর এবার তৃনমুল পর্যায়ের কমিটি থেকেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবলিত চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। এটি সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘শুদ্ধি’ অভিযানের অংশ বলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকু যাওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে এ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দুভাবেই তাঁর বার্তা পাঠাচ্ছেন। দলীয়ভাবে কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন চিঠি দিয়ে। কাউকে কাউকে মৌখিক ও বার্তাবাহকের মাধ্যমে সংগঠন থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সরাসরি বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রথমে ব্যক্তি চিহ্নিত করা, এরপর তথ্য সংগ্রহ এবং শেষে গ্রেফতারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত কেউ যাতে বিদেশে পালাতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র, জেনিউজ